নাটোরে আলোচিত সেই পুলিশ সুপার ফের কারাগারে, দুই মাসের মধ্যে অভিযোগ গঠনের নির্দেশ

নাটোর অফিস।।
নাটোরে স্ত্রী মেহনাজ আক্তারের দায়ের করা নির্যাতন মামলায় আলোচিত ময়মনসিংহ রেঞ্জে সংযুক্ত ও সাময়িক বরখাস্তকৃত আলোচিত সেই পুলিশ সুপার এস এম ফজলুল হককে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে আগামী দু’মাস পর ওই পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠণের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৭ মার্চ) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে হাজির করা হলেও আসামী পক্ষের আইনজীবী আদালতে জামিন শুনানীর জন্য আবেদন না করায় তাঁকে আবারও জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। এরআগে আজ বেলা ১১ টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে পুলিশ সুপার এসএম ফজলুল হককে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় ফজলুলের এক হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। এ ছাড়া আদালত চত্বরের নিরাপত্তায় কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মোঃ মোস্তফা কামাল, সদর থানার ওসি মাহাবুর রহমান সহ বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নেয়। এরপর সরাসরি তাঁর স্ত্রীর করা নির্যাতনের মামলায় তাকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। এ সময় তিনি মাস্ক পরে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর পক্ষে আইনজীবী সোহেল রানা বক্তব্য দেন। তবে তিনি জামিনের আবেদন করেননি।
নাটোর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (বিশেষ পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল কাদের মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ১১ মার্চ স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিমের আদালতে হাজির হন তিনি। ওইদিন বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন আবেদন না- মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এসময় গণমাধ্যম কর্মীরা তার ছবি ও ফুটেজ তুলতে গেলে পুলিশ সুপার এস এম ফজলুল হক গণমাধ্যমের ক্যামেরার ওপর চড়াও হন। এনিয়ে তুমুল হৈচৈ পড়ে যায় আদালত চত্বরসহ আশপাশের এলাকায়। পাশাপাশি এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা-সমলোচানার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় ওই দিনই স্থানীয় এক সাংবাদিক বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় সুপার এসএম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি বলেন, পরবর্তী দুই মাস পর তার বিরুেেদ্ধ অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পরে আবারও বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ ভ্যানে করে তাঁকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় সাংবাদিকেরা তাঁর ছবি ও ভিডিও করেন। তাতে কেউ বাধা দেননি। আজ কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেনি। তাঁকে নিরাপদে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৮ আক্টোবর স্ত্রী মেহনাজ আক্তার তার স্বামী পুলিশ সুপার ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তার ওপর নির্যাতন,পরকীয়া সহ নানা অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। এর পর পুলিশ সুপার ফজলুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করে মযমনসিংহ রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *