নাটোর: নাটোর শহরের উত্তর বড়গাছা এলাকার এন এস সরকারী কলেজ মাঠের ঈদ মেলা হারাতে বসেছে এর সোনালী অতীত। ঈদের দিন ভোর থেকেই খাদ্যদ্রব্য, খেলনা, তৈজসপত্রসহ হরেক রকমের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসতেন দোকানীরা। তবে গত কয়েক বছর ধরে জমছেই না এক সময়ের আনন্দমুখর এ মেলাটি। তবুও শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিভাবকদের সাথে শিশুরা আসছে এ মেলায়।
জানা যায়, প্রতি ঈদে এন এস সরকারী কলেজ মাঠে একটি করে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আগে প্রায় অর্ধেক মাঠ জুড়ে মেলা বসলেও এখন বসে এক চতুর্থাংশেরও কম জায়গা জুড়ে। ঈদের নামাজের পর শিশুদের সমাগমে শুরু হয় মেলাটি যা মুখর থাকে ওইদিন দুপুর পর্যন্ত। তবে এখন জামাতের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ফাকা হয়ে যায় মেলার জায়গাটি।
বুধবার ঈদ জামাত শেষে দেখা যায়, মেলায় অংশ নিয়েছে মাত্র ০৯ জন দোকানী। তাদের মতে, বছর দশেক আগেও এই মাঠের মেলাটি ছিলো জমজমাট। অর্ধশতাধিক দোকানী দোকান সাজাতেন হরেক রকম পসরার সমাহারে। সময়ের সাথে সাথে শিশুদের রুচির পরিবর্তন ঘটনার কারণে তারা এখন মেলা বিমুখ।
মেলায় আসা ছোট্ট রাইসা জানায়, মেলা তার ভালো লেগেছে। তবে বেলুন না থাকায় সে মন খারাপ করেছে।
দলবেঁধে আসা শিশির, সজিব, দুলাল, পল্লব জানায়, আগের মতো দোকানপাট বসেনি এবারের মেলায়। অনেক কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না।
সারোয়ার ও প্রান্ত নামের দুই কিশোরের ভাষ্য, ‘ আমরা ছোট থেকে মেলায় আসি ঈদের দিন। মনে হয়, এখানে না এলে ঈদ যেন ঈদই নয়। কিন্ত এখন অল্প দোকানপাট বসে। আগে এরকম ছিলো না। ‘
কদমা, ঝুরিভাজা, বাদাম, কটকটিসহ বেশ কিছু খাবারের পসরা নিয়ে বসা করম আলী প্রতিবছর এ মেলায় আসেন বাগমারার বীরকুৎসা থেকে। তিনি বলেন, ‘একটা সময় জিনিস বেইচা কূল পাইতাম না আর এখন দেখেন সব পইরা আছে। ছালপাল আসা কমাই দিসে’।
এন এস কলেজ মাঠের এই মেলা ফিরে পাবে তার হারানো জৌলুস, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।